জামিয়ার পরিচিতি

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। মেরুদন্ড ব্যতীত কোন প্রাণী বাঁচতে পারে না। তেমনি সুশিক্ষা ব্যতীত কোন মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হতে পারে না। মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রয়োজন পরিমাণ দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা অত্যাবশ্যক। ইরশাদ হচ্ছে-সকল মুসলমান নর-নারীর উপর ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। ইসলামের এই মহান দায়িত্ব সামনে রেখে কতিপয় আত্মত্যাগী নিষ্ঠাবান আলেমে দ্বীনের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া। ইলমে ওহীর (ঐশী জ্ঞান) আলো বঞ্চিত দিশেহারা বনি আদমকে অর্ধ শতাব্দীর বেশি কাল ধরে জামিয়া আলোর সন্ধান দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জামিয়া শত বাধার মুখেও নিরবিচ্ছন্নভাবে অত্যন্ত সফলতার সাথে অসংখ্য ইলমপিপাসু ছাত্রদের তৃষ্ণা নিবারণ করে চলছে। জামিয়ার এই অবদানের পিছনে সকল মুসলমানের আন্তরিকতা এবং আর্থিক সহযোগিতা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে এলাকাবাসীর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এই ধারার ইতিহাসে।আল্লাহ আমাদের ত্যাগ ও তিতীক্ষাকে কবুল করুন। আমিন

প্রতিষ্ঠাকাল ও অবস্থান

মুসলিম উম্মাহর ইমান-আকিদা সংরক্ষণ এবং ইসলামী তাহযীব তামাদ্দুন তথা সভ্যতা সংস্কৃতি লালন ও বিকাশের জন্য ইংরেজী ১৯৬০ সালে জামালপুর জেলার অন্তর্গত মেলান্দহ থানার প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া ও ইংরেজী ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া মহিলা শাখা।

নামকরণঃ

আওলাদে রাসুল শায়খুল আরব ওয়াল আজম হযরত মাওলা হুছাইন আহমাদ মাদানী র. এর নাম অনুসারে নাম করন করা হয় জামিয়া হুছাইনিয়া আরাবিয়া।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

আল্লাহর সন্তষ্টির উদ্দেশ্যে সাহাবায়ে কেরাম সালফে সালেহীন এবং আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীনের গবেলণা প্রসূত জ্ঞানের আলোকে কুরআন সুন্নাহর শিক্ষা প্রদান করে তাদের যোগ্য করে উত্তরসূরী হিসাবে গড়ে তোলা।

শিক্ষা কারিকুলাম:

বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষা কারিকুলাম অনুসারে বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক এর অধীনে জামিয়ার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কুরআন, হাদীস, তাফসীর, ইসলামী আইন, ইসলাম দর্শন, নীতি শাস্ত্র, ইতিহাস, সীরাত, তর্কশাস্ত্র, উসুলে ফিকাহ, আদব, আরবী ব্যাকরণ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

জামিয়ার শিক্ষা সফলতাঃ

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করার ফলে। অতি অল্প সময়ে এ প্রতিষ্ঠানটির সুনাম-সুখ্যাতি দেশর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ে। সার্বিক দিক বিবেচনায় এ প্রতিষ্ঠানটি উলামায়ে কেরাম ও সুধী মহলের নিকট ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। অপর দিকে সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলীর আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষাসমূহে বিভিন্ন মারহায়লায় মেধা তালিকায় সম্মান জনক স্থান অধিকার করে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করে আসছে।

মাদ্রাসার পরিচিতি ও পরিসংখ্যান

নাম – জামিয়া হুছাইনিয়া আরাবিয়া মেলান্দহ ( মেলান্দহ মাদ্রাসা )
প্রতিষ্ঠাকাল – ১৯৬০ ইং
ছাত্র সংখ্যা – ৮৫০ (আটশত পঞ্চাশ) জন
ছাত্রী সংখ্যা – ৪৬৫ (চারশত পয়ষট্টী) জন
শিক্ষক সংখ্যা – ৪৮ জন
শিক্ষিকা সংখ্যা – ১২ জন
কর্মচারী সংখ্যা – ১৪ জন
আজীবন বদরীন সদস্য সংখ্যা – ৩১৩ জন

জামিয়া হুছাইনিয়া আরাবিয়া মহিলা শাখা
প্রতিষ্ঠাকাল – ২০১২ ইং

মাদ্রাসার সাম্প্রতিক কিছু ছবি